মৌর্য-উত্তর যুগ মাইন্ড ম্যাপ
দেশীয় রাজবংশ
সাতবাহন রাজবংশ
মৌর্য-উত্তর শিল্পরীতি
বিদেশী আক্রমণকারী
কুষাণ রাজবংশ
সাহিত্য ও বিজ্ঞান
দেশীয় রাজবংশের বিবরণ (শুঙ্গ, কণ্ব ও চেদি)
Details - Sunga, Kanva & Chedi
শুঙ্গ রাজবংশ (Sunga Dynasty: 185BC - 73BC):
  • পুষ্যমিত্র শুঙ্গ (প্রতিষ্ঠাতা): শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করেন। তিনি ছিলেন গোঁড়া হিন্দু ধর্মের অনুসারী। রাজধানী: বিদিশা (Vidisha, Madhya Pradesh)।
  • বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা: সাঁচির ভরহুত স্তূপের (Bharhut stupa) সংস্কার করেন। তিনি দুটি অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদন করেন। বিখ্যাত বৈয়াকরণ পতঞ্জলি (Patanjali) তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং অশ্বমেধ যজ্ঞের পৌরোহিত্য করেন (মহাভাষ্য রচয়িতা)।
  • অগ্নিমিত্র: তাঁর পুত্র। কবি কালিদাস রচিত বিখ্যাত নাটক মালবিকাগ্নিমিত্রম্ (Malavikagnimitram) অগ্নিমিত্র ও মালবিকার প্রেমকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে রচিত।
  • দেবভূতি: শেষ শুঙ্গ রাজা, যিনি তাঁর মন্ত্রী বাসুদেব দ্বারা নিহত হন।
কণ্ব রাজবংশ (Kanva dynasty: 73BC - 28BC):
  • বাসুদেব (প্রতিষ্ঠাতা): শুঙ্গদের অমাত্য বা ভৃত্য ছিলেন (Shungabhritya)। রাজধানী: পাটলিপুত্র (Patliputra)।
চেদি রাজবংশ (Chedi dynasty: 1st Century BC):
  • কলিঙ্গ অঞ্চলের শাসক। সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা: খারবেল (Kharavela) — তিনি জৈনধর্মের অনুসারী ছিলেন। শিলালিপি: ভুবনেশ্বরের নিকট হাতিগুম্ফা শিলালিপি (Hathigumpha inscription)।
সাতবাহন রাজবংশের বিবরণ ও শিল্পকীর্তি
Details - Satvahana Dynasty
সাতবাহন সাম্রাজ্য (Satvahana dynasty: 60BC - 225AD):
  • সিমুক সাতবাহন (প্রতিষ্ঠাতা)। পুরাণ ও শিলালিপিতে এরা 'অন্ধ্র' বা 'অন্ধ্রভৃত্য' (Andhrabhrityas) নামে পরিচিত। রাজধানী: মহারাষ্ট্রের পঠান বা প্রতিষ্ঠান (Paithan / Pratisthan)।
  • গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী (১০৬ - ১৩০ খ্রিস্টাব্দ): সর্বশ্রেষ্ঠ সাতবাহন রাজা। উপাধি ছিল 'একব্রাহ্মণ' (Eka-brahmana)। তিনি শক রাজা নহপানকে পরাজিত করেছিলেন (নাসিক শিলালিপিতে প্রমাণিত)।
  • শক দ্বন্দ্ব: শক রাজা রুদ্রদমন ১ম বশিষ্ঠীপুত্র পুলুমায়ীকে পরাজিত করেছিলেন।
সমাজ ও সংস্কৃতি:
  • পিতৃতান্ত্রিক সমাজকাঠামো হলেও রাজারা নামের আগে মায়ের নাম বসাতেন (যেমন: গৌতমীপুত্র, বশিষ্ঠীপুত্র)। এরা বৈদিক ব্রাহ্মণ ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
  • বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণদের নিষ্কর জমি দান করার প্রথা এরাই প্রথম শুরু করেন। সিসার মুদ্রা (Lead coin) চালু করেন। প্রাকৃত ভাষা ব্যবহার করতেন।
স্থাপত্য ও শিল্পকলা:
  • পাথর কেটে গুহা স্থাপত্য তৈরি (নাসিক, কানহেরি ও কার্লের চৈত্য)। বিখ্যাত অজন্তা গুহা (Ajanta caves) নির্মাণ এদের সময়েই শুরু হয়।
  • স্তূপ স্থাপত্য: অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী (Amravati) ও নাগার্জুনকোন্ডা স্তূপ নির্মাণ।
গান্ধার ও মথুরা শিল্পরীতি
Details - Art Schools
গান্ধার শিল্পরীতি (Gandara school of art):
  • গ্রিক ও রোমান ভাস্কর্য দ্বারা প্রভাবিত (Hellenistic / developed by Greeks)।
  • মূলত বৌদ্ধধর্ম ভিত্তিক শিল্পকলা (mainly on Buddhism)। বুদ্ধের কোঁকড়ানো চুল এবং গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর মতো মূর্তির গড়ন।
  • মূর্তির পেছনে অলঙ্কৃত আলো বা প্রভামণ্ডল (Halo) খুব উন্নত বা খোদাইকৃত ছিল না।
  • ব্যবহৃত পাথর: ধূসর বা কালচে বেলেপাথর (Gray sandstone)।
মথুরা শিল্পরীতি (Mathura School of art):
  • সম্পূর্ণ ভারতীয় বা দেশীয় পদ্ধতিতে বিকশিত (developed by Indigenous)।
  • বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু ধর্মের দেবদেবীর মূর্তি তৈরি হতো। বুদ্ধের মূর্তির মুখে প্রশান্ত আধ্যাত্মিক ভাব এবং মস্তকে উষ্ণীষ (খোঁপা)।
  • মূর্তির পেছনে বিশাল অলঙ্কৃত আলো বা প্রভামণ্ডল (Halo) খোদাই করা থাকত।
  • ব্যবহৃত পাথর: লাল চিত্রিত বা ছোপযুক্ত বেলেপাথর (Red sandstone)।
দেশীয় রাজবংশসমূহ
Sunga, Kanva & Chedi

মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর মগধ ও মধ্য ভারতে শুঙ্গ ও কণ্ব রাজবংশ এবং কলিঙ্গে চেদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস।

সাতবাহন রাজবংশ
Satvahana Dynasty

দাক্ষিণাত্য ও মহারাষ্ট্রের শাসনকর্তা সাতবাহনদের সামাজিক রূপরেখা, নিষ্কর জমি দান প্রথা এবং বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্য কীর্তিসমূহ।

মৌর্য-উত্তর শিল্পরীতি
Post-Mauryan Art Schools

গ্রিক প্রভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে বিকশিত গান্ধার ভাস্কর্য এবং সম্পূর্ণ দেশীয় ধারার মথুরা ভাস্কর্য রীতির তুলনামূলক বিবরণ।

মৌর্য-উত্তর যুগ
Post Mauryan Empire
sanvitools.in
বিদেশী আক্রমণকারী
Central Asian Invaders

গ্রিক, শক এবং পার্থিয়ান আক্রমণকারীদের আগমন, বিখ্যাত রাজন্যবর্গ (মিলিন্দ, রুদ্রদমন ১ম) এবং শিলালিপিসমূহ।

গ্রিক, শক ও পার্থিয়ান
কুষাণ রাজবংশ
Kushana Dynasty

ইউ-চি উপজাতির কুষাণ সাম্রাজ্য, সম্রাট কণিষ্কের রাজত্বকাল, শকাব্দ প্রবর্তন, রেশম পথ নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজে এর প্রভাব।

কণিষ্ক ও সামাজিক প্রভাব
সাহিত্য ও বিজ্ঞান
Literature & Science

মৌর্য-উত্তর যুগের প্রখ্যাত কবি অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিতম, বাৎস্যায়নের কামসূত্র এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের চরক ও সুশ্রুত সংহিতা।

গ্রিক, শক ও পার্থিয়ানদের বিবরণ
Details - Invaders & Sakas
ইন্দো-গ্রিক রাজ্য (Indo-Greeks):
  • প্রথম খাইবার বা হিন্দু কুশ পর্বত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন।
  • বিখ্যাত রাজা: মিনান্দার বা মিলিন্দ (Menander / Milinda)। পালি গ্রন্থ মিলিন্দপনহো অনুযায়ী তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষু নাগসেনের প্রভাবে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন।
  • সাফল্য: ভারতে প্রথম সোনার মুদ্রা (Gold coin) চালু করেন এবং মুদ্রায় রাজার ছবি ও নাম খোদাই করার প্রথা শুরু করেন। এদের আনীত হেলেনীয় শিল্প ভারতের গান্ধার শিল্পের জন্ম দেয়।
শক রাজবংশ (Sakas dynasty / Scythians):
  • ৫টি ভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে ভারত শাসন করতেন। ক্ষত্রপ ব্যবস্থা (Satrap system - সামরিক গভর্নর) চালু করেন।
  • বিক্রমাদিত্য: ৫৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে শকদের পরাজিত করে বিক্রম সংবৎ (Vikram Samvat - হিন্দু পঞ্জিকা) চালু করেন। রাজধানী: উজ্জয়িনী।
  • রুদ্রদমন ১ম (১৩০-১৫০ খ্রিস্টাব্দ): জুনাগড় শিলালিপি বা গিরনার শিলালিপি (সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রথম দীর্ঘ শিলালিপি) খোদাই করান। মৌর্য আমলের সুদর্শনা হ্রদ সংস্কারের বিবরণ এতে পাওয়া যায়।
পার্থিয়ান রাজ্য (Parthiyan / Pahlavas):
  • শক সাম্রাজ্যের পর ভারতে আসেন। বিখ্যাত রাজা: গন্ডোফারনেস (Gondophares)। তাঁর রাজত্বকালেই সেন্ট থমাস (St. Thomas) খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের জন্য ভারতে আসেন।
কুষাণ সাম্রাজ্য ও কণিষ্কের রাজত্বকাল
Details - Kushana Dynasty
কুষাণ সাম্রাজ্য (Kushana dynasty: 1st-3rd century AD):
  • চীন সীমান্ত থেকে আগত ইউ-চি (Yueh-chi) বা তোখারিও (Tocharians) উপজাতি। প্রতিষ্ঠাতা ও ১ম শাসক: কুজুল কদফিসেস (Kadphises I)। কুষাণ রাজারা 'দেবপুত্র' (Devaputra - ঈশ্বরের পুত্র) উপাধি ধারণ করতেন। রাজধানী: পুরুষপুর (পেশোয়ার) ও পরে মথুরা।
  • কণিষ্ক (২য় অশোক): সর্বশ্রেষ্ঠ কুষাণ সম্রাট। ৭৮ খ্রিস্টাব্দে 'শকাব্দ' (Saka Samvat) প্রবর্তন করেন, যা ভারত সরকারের জাতীয় পঞ্জিকা। ৪র্থ বৌদ্ধ সঙ্গীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন (কাশ্মীর)। তিনি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক রেশম পথ (Silk Route) নিয়ন্ত্রণ করতেন।
  • মুদ্রা ব্যবস্থা: কুষাণরা ভারতে সবচেয়ে খাঁটি মানের সোনার মুদ্রা (Purest form of gold coins) এবং তামার মুদ্রা 'দিনার' (Dinar) ব্যাপকভাবে চালু করেন।
  • বাসুদেব ১ম: শেষ বিখ্যাত কুষাণ শাসক।
সমাজে প্রভাব ও শাসন (Impact in India society & Polity):
  • মৃৎশিল্প: লাল রঙের বিশেষ মৃৎপাত্রের (Red Ware) ব্যবহার।
  • টুপি (Turban), শেরওয়ানি এবং উন্নত জিনসহ ঘোড়সওয়ারির প্রযুক্তি ভারতে চালু হয়। শাসন কার্যে ক্ষত্রপ প্রথা (Satrap system) অনুসৃত হতো। শৈব ও বৌদ্ধ ধর্মের সমান উপাসনা ছিল।
মৌর্য-উত্তর সাহিত্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান
Details - Literature & Science
সাহিত্যকর্ম (Literature):
  • বুদ্ধচরিতম: কণিষ্কের সভাকবি অশ্বঘোষ (Ashvaghosha) রচিত বুদ্ধের প্রথম সংস্কৃত মহাকাব্য জীবনী।
  • মহাবস্তু ও দিব্যাবদান: বিখ্যাত বৌদ্ধ সাহিত্যগ্রন্থ।
  • কামসূত্র: বাৎস্যায়ন (Vatsyayana) রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ।
চিকিৎসা বিজ্ঞান (Science):
  • চরকসংহিতা: চরক (Charak) রচিত বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্র। তিনি কণিষ্কের রাজবৈদ্য ছিলেন।
  • সুশ্রুতসংহিতা: সুশ্রুত (Sushruta) রচিত বিখ্যাত শল্যচিকিৎসা সংক্রান্ত আকর গ্রন্থ। সুশ্রুতকে 'শল্যচিকিৎসার জনক' (Father of Surgery) বলা হয়।