মোঘল সাম্রাজ্য (পর্ব ২) মাইন্ড ম্যাপ
পরবর্তী মোঘল
প্রশাসন ও কর্মকর্তা
সম্রাট জাহাঙ্গীর
সম্রাট শাহজাহান
সম্রাট আওরঙ্গজেব
পরবর্তী মোঘল শাসকবৃন্দ ও সাম্রাজ্যের অবক্ষয়
Details - Later Mughals & Decadence
সম্রাটগণ ও শাসনকাল:
  • ১ম বাহাদুর শাহ (1707-1712 খ্রি.): আসল নাম শাহ আলম ১ম। তিনি জিজিয়া কর রদ করেন।
  • জাহান্দার শাহ (1712-1713 খ্রি.): জুলফিকার খানের সাহায্যে সিংহাসন লাভ করেন।
  • ফররুখ শিয়ার (1713-1719 খ্রি.): সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়ের (Sayyid Brothers) সহায়তায় সিংহাসনে বসেন। ১৭১৭ খ্রি. তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের বিখ্যাত 'গোল্ডেন ফরমান' (Golden Farman) দান করেন। পরবর্তীতে সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয় মারাঠাদের সহায়তায় তাঁকে হত্যা করে।
  • মুহাম্মদ শাহ (1719-1748 খ্রি.): বিলাসিতার জন্য 'রঙ্গিলা' (Rangeela) নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আমলে ১৭৩৯ খ্রি. পারস্যের নাদির শাহ (Nadir Shah) ভারত আক্রমণ করেন এবং ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর হীরা লুন্ঠন করেন। তিনি সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়কে হত্যা করান।
  • অন্যান্য শাসকবৃন্দ: আহমদ শাহ (১৭৪৮-১৭৫৪ খ্রি.), ২য় আলমগীর (১৭৫৪-১৭৫৯ খ্রি.), ২য় শাহ আলম (১৭৫৯-১৮০৬ খ্রি.), ২য় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭ খ্রি.)।
  • ২য় বাহাদুর শাহ জাফর (1837-1857 খ্রি.): মোঘল বংশের শেষ সম্রাট। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে যোগ দেন, ব্রিটিশরা তাঁকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করে।
মোঘল শাসনব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও পদ
Details - Mughal Administration & Officers
গুরুত্বপূর্ণ রাজকর্মকর্তাবৃন্দ (Officers):
  • মীর সামান (Mir Saman): রাজকীয় পরিবারের অভ্যন্তরীণ রসদ ও ঘরকন্নার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
  • মীর বখশী (Mir Bakshi): সামরিক বিভাগের প্রধান, গোয়েন্দা শাখা এবং মনসবদার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • দেওয়ান (Diwan): রাজস্ব ও অর্থ প্রশাসনের সর্বাধিনায়ক।
  • ফৌজদার (Faujdar): জেলা বা সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তা।
  • আমলগুজার (Amalguzar): সরকারের ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের প্রধান কর্মকর্তা।
  • সদর (Sadr): বিচার ও ধর্মীয় অনুদান বিষয়ক প্রধান বিচারক।
  • শিকদার (Shiqdar): পরগনা স্তরের পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা প্রধান।
  • আমীন (Amin): পরগনা স্তরে রাজস্ব নির্ধারণ ও সংগ্রহের পরিদর্শক।
প্রশাসনিক বিভাগ (Divisions):
  • সুবা বা প্রদেশ (Suba): শাসনকর্তা ছিলেন সুবেদার বা নাজিম (Subedar / Nazim)।
  • সরকার বা জেলা (Sarkar): দায়িত্বে ছিলেন ফৌজদার এবং রাজস্বে আমলগুজার।
  • পরগনা বা তালুক (Pargana): দায়িত্বে ছিলেন শিকদার এবং কানুনগো (Qanungo - রাজস্ব হিসাবরক্ষক)।
  • গ্রাম (Gram): প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন মুকাদ্দম (Muqaddam - গ্রামের প্রধান)।
পরবর্তী মোঘল
Later Mughals

১ম বাহাদুর শাহ থেকে শেষ সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহ জাফর, ফররুখ শিয়ারের গোল্ডেন ফরমান এবং নাদির শাহের ভারত আক্রমণ ও লুটপাট।

শাসনব্যবস্থা ও কর্মকর্তা
Mughal Administration

সুবা, সরকার, পরগনা ও গ্রাম স্তরের প্রশাসনিক বিভাজন এবং মীর বখশী, মীর সামান ও ফৌজদার কর্মকর্তাদের কার্যাবলী।

মোঘল সাম্রাজ্য
(পর্ব ২)
Mughal Empire - II
sanvitools.in
১৬০৫ খ্রি. - ১৮৫৭ খ্রি.
সম্রাট জাহাঙ্গীর
Emperor Jahangir

নূরজাহানের সাথে বিবাহ ও তাঁর প্রভাব, ক্যাপ্টেন হকিন্স ও স্যার টমাস রোর আগমন এবং জঞ্জির-ই-আদল জাস্টিস শিকল।

১৬০৫ - ১৬২৭ খ্রি.
সম্রাট শাহজাহান
Emperor Shahjahan

স্থাপত্যের সুবর্ণ যুগ, লাল কেল্লা, তাজমহল ও ময়ূর সিংহাসন, পর্যটক তাভার্নিয়ার, বার্নিয়ার ও মানুচি এবং উত্তরাধিকারের যুদ্ধ।

১৬২৮ - ১৬৫৮ খ্রি.
সম্রাট আওরঙ্গজেব
Emperor Aurangzeb

দারা শিকোহকে হারিয়ে সিংহাসন লাভ, 'জিন্দা পীর' আলমগীর, ৯ম শিখ গুরু তেগ বাহাদুরের শিরশ্ছেদ এবং বিজাপুর ও গোলকোণ্ডা জয়।

১৬৫৮ - ১৭০৭ খ্রি.
সম্রাট জাহাঙ্গীর — শাসনকাল ও দরবার
Details - Jahangir's Court & Britishers
নূর-উদ-দিন মুহাম্মদ সেলিম (Jahangir):
  • আকবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র। সিংহাসনে বসে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করেন। আগ্রা দুর্গে ন্যায়বিচারের জন্য একটি সোনার শিকল ঝুলিয়ে দেন, যা 'জঞ্জির-ই-আদল' (Zanjir-i-Adal) নামে পরিচিত।
বিবাহ ও নূরজাহান:
  • ১৬১১ খ্রি. মেহের-উন-নিসা বা নূরজাহানকে (২০তম স্ত্রী) বিবাহ করেন। নূরজাহান ছিলেন বাংলার আফগান শাসক শের আফগানের বিধবা পত্নী। তিনি 'বাদশাহ বেগম' উপাধি লাভ করেন এবং রাজকার্যে বিপুল প্রভাব বিস্তার করেন। এছাড়া তিনি রাঠোর রাজকুমারী মানমতী বা জগত গোসাইকে বিবাহ করেন।
ব্রিটিশ ও বিদেশী আগমন:
  • ১৬০৮ খ্রি. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স (William Hawkins) জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন (তাঁকে ৪০০-র মনসব দেওয়া হয়)।
  • ১৬১৫ খ্রি. ইংল্যান্ডের রাজা ১ম জেমসের দূত স্যার টমাস রো (Sir Thomas Roe) আসেন এবং সুরাটে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রথম কুঠি স্থাপনের অনুমতি লাভ করেন।
সামরিক সংঘাত ও অন্যান্য:
  • তিনি আহমদনগর জয় করেন (মালিক অম্বর বালাঘাট অঞ্চল মোঘলদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন)। শিখদের ৫ম গুরু অর্জুন দেবকে হত্যা করেন। শাহজাহান (খুররম) ও মহাবত খাঁ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
  • আত্মজীবনী: ফার্সি ভাষায় তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী (Tuzuk-i-Jahangiri) রচনা করেন। লাহোরের শাহদারাতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
সম্রাট শাহজাহান — স্থাপত্য ও পরিব্রাজক
Details - Shahjahan's Art & Travel
স্থাপত্য ও শিল্পকলা:
  • মাতা জগত গোসাই। শাহজাহানের সময়কালকে মোঘল স্থাপত্যের সুবর্ণ যুগ বলা হয়। তিনি লাল কেল্লা, জামা মসজিদ, তাজমহল, দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস ও ময়ূর সিংহাসন (Peacock Throne) নির্মাণ করেন।
সামরিক বিজয়:
  • ১৬৩২ খ্রি. পর্তুগিজদের পরাজিত করেন। ১৬৩৭ খ্রি. আহমদনগরকে মোঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। বিজাপুর ও গোলকোণ্ডা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে।
বিদেশী পরিব্রাজকদের বিবরণ:
  • ইতালীয় পর্যটক নিকোলো মানুচি (Niccolao Manucci), ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ও জঁ-ব্যাপটিস্ট তাভার্নিয়ার (Tavernier) ভারতে আসেন। তাভার্নিয়ার ৬ বার ভারত ভ্রমণ করেন এবং ভ্রমণ কাহিনী রচনা করেন।
  • পিটার মুন্ডি (Peter Mundy) তাঁর আমলে ঘটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের বিবরণ দিয়েছেন।
উত্তরাধিকারের যুদ্ধ ও মৃত্যু:
  • ১৬৫৭ খ্রি. তাঁর অসুস্থতার সুযোগে তাঁর চার পুত্রের মধ্যে সিংহাসনের লড়াই শুরু হয়। বিজয়ী হয়ে আওরঙ্গজেব ১৬৫৮ সালের জুলাই মাসে সিংহাসনে বসেন।
  • ইতিহাসবিদ আব্দুল হামিদ লাহোরী তাঁর রাজত্ব নিয়ে পাদশাহনামা বা বাদশাহনামা (Badshahnama) রচনা করেন। ১৬৬৬ খ্রি. শাহজাহান মারা যান এবং তাজমহলে সমাহিত হন।
সম্রাট আওরঙ্গজেব — ধর্মীয় নীতি ও বিস্তার
Details - Aurangzeb's Reign & Wars
সিংহাসন লাভ ও উপাধি:
  • ১৬৫৮ খ্রি. ধর্মাত, সামুগড় ও দেওরাইয়ের যুদ্ধে তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দারা Shikoh-কে পরাজিত করেন।
  • তাঁর উপাধি ছিল 'আলমগীর' (Alamgir)। অত্যন্ত সাদাসিধে ও কৃচ্ছ্রসাধন জীবনযাপনের জন্য তাঁকে 'জিন্দা পীর' (Zinda Pir) বলা হতো।
শিখ সংঘাত:
  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় ১৬৭৫ খ্রি. শিখদের ৯ম গুরু তেগ বাহাদুরকে বন্দি ও শিরশ্ছেদ করেন।
ভৌগোলিক বিস্তার ও দাক্ষিণাত্য নীতি:
  • প্রথম ২৫ বছর (১৬৫৮-১৬৮১ খ্রি.) উত্তর ভারতে শাসন কেন্দ্রীভূত রাখেন। ১৬৮৬ খ্রি. বিজাপুর এবং ১৬৮৭ খ্রি. গোলকোণ্ডা সম্পূর্ণভাবে মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।
ধর্মীয় নীতি ও মৃত্যু:
  • আকবরের বাতিল করা জিজিয়া কর তিনি পুনরায় প্রবর্তন করেন। প্রজাদের নৈতিকতা তদারকির জন্য 'মুহতাসিব' (Muhtasibs) নামক কর্মচারী নিয়োগ করেন। তাঁর আদেশে ইসলামী আইনের বিশ্বকোষ ফতোয়া-ই-আলমগিরী (Fatwa-i-Alamgiri) সংকলিত হয়।
  • ১৭০৭ খ্রি. দাক্ষিণাত্যের খুলদাবাদে (দৌলতাবাদ) মারা যান এবং সেখানেই সমাহিত হন।