মারাঠা সাম্রাজ্য ও পেশোয়া শাসন মাইন্ড ম্যাপ
বালাজী বিশ্বনাথ
১ম বাজিরাও
বালাজী বাজিরাও ও যুদ্ধ
ছত্রপতি শিবাজী
শম্ভাজী ও রাজারাম
শাহুজী মহারাজ
বালাজী বিশ্বনাথ ও পেশোয়া তন্ত্রের উত্থান
Details - Balaji Viswanath & Sayyids
পেশোয়া পদ গঠন ও বিস্তার:
  • বালাজী বিশ্বনাথ (1713-1720 খ্রি.): মারাঠাদের প্রথম প্রভাবশালী পেশোয়া বা প্রধানমন্ত্রী। ১৭০৮ খ্রি. ছত্রপতি শাহুজী মহারাজ তাঁকে 'Sena Karte' (সেনাবাহিনী সংগঠক) উপাধি দেন। ১৭১৩ খ্রি. তিনি পেশোয়া হয়ে পদটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বংশানুক্রমিক (hereditary) করে তোলেন।
দিল্লীর দরবারে আধিপত্য:
  • মোঘল দরবারের প্রভাবশালী রাজা-নির্মাতা 'সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়' (Sayyid Brothers)-এর সাথে ১৭১৯ খ্রি. এক ঐতিহাসিক চুক্তি করে সম্রাট ফররুখ শিয়ারকে সিংহাসনচ্যুত করতে সাহায্য করেন। পরবর্তীতে বালাজী বিশ্বনাথের সহায়তায় মোঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহ রঙ্গিলা সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়কে হত্যা করে তাদের কব্জা থেকে মুক্ত হন।
১ম বাজিরাও ও মারাঠা কনফেডারেসি
Details - Baji Rao I & Maratha Confederacy
১ম বাজিরাও (Baji Rao I: 1720-1740):
  • বালাজী বিশ্বনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং মারাঠা সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি। তিনি হিন্দু পাদ-পাদশাহীর আদর্শ ছড়িয়ে দেন।
  • সামরিক অভিযান: হায়দ্রাবাদের ১ম নিজাম নিজাম-উল-মূলকে পরাজিত করে 'দোরাহা সরাই'-এর চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ১৭৩৭ খ্রি. মাত্র ৫০০ অশ্বারোহী নিয়ে দিল্লী আক্রমণ ও লাল কেল্লায় হানা দেন। ১৭৩৯ খ্রি. পর্তুগিজদের থেকে বাসিন (Bassein) দুর্গ জয় করেন।
মারাঠা কনফেডারেসি বা পঞ্চ শক্তি:
  • তাঁর সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করতে ৫টি শক্তিশালী শাসনকর্তা পরিবারে ভাগ করা হয়:
    • পেশোয়া: পুনে (Peshwas of Pune)
    • গায়কোয়াড়: বরোদা (Gaikwads of Baroda)
    • ভোঁসলে: নাগপুর (Bhonsle of Nagpur)
    • হোলকার: ইন্দোর (Holkars of Indore)
    • সিন্ধিয়া: গোয়ালিয়র (Scindias of Gwalior)
বালাজী বাজিরাও, পানিপথ ও ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ
Details - Balaji Baji Rao & Anglo Wars
বালাজী বাজিরাও (Balaji Baji Rao: 1740-1761):
  • নানা সাহেব (Nana Saheb) নামে পরিচিত। তাঁর আমলে ১৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের ৩য় যুদ্ধ (3rd Battle of Panipat) সংঘটিত হয়। মারাঠাদের নেতৃত্ব দেন সদাশিবরাও ভাউ (Sadashivrao Bhau) এবং আফগানদের পক্ষে আহমদ শাহ আবদালী (Ahmad Shah Abdali)। মারাঠারা এই যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং নানা সাহেব শোকাহত হয়ে মারা যান।
ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধসমূহ (Anglo-Maratha Wars):
  • ১ম যুদ্ধ (১৭৭৫-১৭৮২): রঘুনাথ রাওয়ের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে শুরু। নানা ফড়নবিশের নেতৃত্বে মারাঠারা জয়লাভ করে। ওয়াডগাঁও চুক্তি ও ১৭৮২ খ্রি. সালবাই চুক্তি (Treaty of Salbai) দ্বারা সমাপ্ত হয়।
  • ২য় যুদ্ধ (১৮০৩-১৮০৫): বাজিরাও ২য় ১৮০২ খ্রি. বেসিনের চুক্তি (Treaty of Bassein) স্বাক্ষর করে ১৮০৩ খ্রি. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি নেন। ভোঁসলের সাথে দেবগাঁও চুক্তি এবং হোলকারের সাথে রাজঘাট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • ৩য় যুদ্ধ (১৮১৭-১৮১৮): এটি পিন্ডারী যুদ্ধ (Pindari War) নামেও পরিচিত। ২য় বাজিরাও চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন ও পেশোয়া পদ রদ করে তাঁকে কানপুরের বিঠুরে নির্বাসিত করা হয়। মারাঠা শক্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়।
বালাজী বিশ্বনাথ
Balaji Viswanath

১ম প্রভাবশালী পেশোয়া, পেশোয়া পদ বংশানুক্রমিক করা, সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়ের সাথে চুক্তি এবং দিল্লীর দরবারে মারাঠা প্রভাব প্রতিষ্ঠা।

১৭১৩ - ১৭২০ খ্রি.
১ম বাজিরাও
Baji Rao I

হিন্দু পাদ-পাদশাহীর স্বপ্নদ্রষ্টা, নিজাম দমন, দিল্লীতে অভিযান, পর্তুগিজদের হারিয়ে বাসিন দুর্গ জয় এবং মারাঠা পঞ্চ শক্তির বিকাশ।

১৭২০ - ১৭৪০ খ্রি.
নানা সাহেব ও ইঙ্গ-যুদ্ধ
Balaji Baji Rao & Wars

নানা সাহেবের শাসন, ১৭৬১ সালের পানিপথের ৩য় যুদ্ধ, মারাঠা পরাজয় এবং ৩টি ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের মাধ্যমে মারাঠা শক্তির চূড়ান্ত পতন।

১৭৪০ - ১৮১৮ খ্রি.
মারাঠা সাম্রাজ্য
ও পেশোয়া শাসন
The Marathas
sanvitools.in
১৬৭৪ খ্রি. - ১৮১৮ খ্রি.
ছত্রপতি শিবাজী
Chhatrapati Shivaji

মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, ১৬৭৪ খ্রি. রায়গড়ে রাজ্যাভিষেক, অষ্টপ্রধান মন্ত্রীপরিষদ এবং চৌথ ও সরদেশমুখী কর ব্যবস্থা।

১৬৭৪ - ১৬৮০ খ্রি.
শম্ভাজী ও তারাবাই
Sambhaji, Rajaram & Tarabai

শম্ভাজীর আকবর ২য়-কে আশ্রয় ও আওরঙ্গজেবের হাতে হত্যা, রাজারামের রাজত্ব ও প্রতিনিধি পদ সৃষ্টি এবং তারাবাইয়ের অভিভাবকত্ব।

১৬৮০ - ১৭০৭ খ্রি.
শাহুজী মহারাজ
Shahuji Maharaj

মোঘল বন্দিদশা থেকে মুক্তি, খেদের যুদ্ধে তারাবাইকে হারানো এবং ছত্রপতির ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে পেশোয়ার হাতে শাসন হস্তান্তর।

১৭০৭ - ১৭৪৯ খ্রি.
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ — জীবন ও শাসন
Details - Shivaji Maharaj & Taxes
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন:
  • ১৬৩০ খ্রি. শিবনেরী দুর্গে (Shivneri Fort) জন্ম। পিতা শাহজী ভোঁসলে ও মাতা জিজাবাই। তাঁর শিক্ষক ছিলেন সমর্থ রামদাস (Samarth Ramdas)।
মোঘল সংঘাত:
  • ১৬৬০ খ্রি. আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খাঁকে শিবাজীকে দমন করতে পাঠান। ১৬৬৫ খ্রি. অম্বরের রাজা জয়সিংহকে পাঠানো হয়।
রাজ্যাভিষেক ও অষ্টপ্রধান:
  • ১৬৭৪ খ্রি. রায়গড় দুর্গে (Raigarh) শিবাজীর রাজ্যাভিষেক ঘটে। তিনি 'ছত্রপতি' ও 'হৈন্দব ধর্মোদ্ধারক' উপাধি ধারণ করেন। রাজকার্যে সাহায্য করার জন্য ৮ জন মন্ত্রীর পরিষদ 'অষ্টপ্রধান' (Ashtapradhan) গঠন করেন।
রাজস্ব ব্যবস্থা:
  • চৌথ (Chauth): মোঘল বা অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্যের আয়ের ১/4 অংশ (২৫%) কর হিসেবে আদায় করা হতো, যাতে মারাঠারা সেখানে আক্রমণ না করে।
  • সরদেশমুখী (Sardeshmukhi): মারাঠাদের পৈত্রিক অধিকারভুক্ত এলাকার ওপর অতিরিক্ত ১০% কর নেওয়া হতো।
শিবাজীর উত্তরাধিকারী — শম্ভাজী ও রাজারাম
Details - Sambhaji, Rajaram & Tarabai
শম্ভাজী (Sambhaji: 1680-1689):
  • শিবাজী ও সাইবাইয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র। সৎ ভাই রাজারামকে পরাজিত করে বসেন। আওরঙ্গজেবের বিদ্রোহী পুত্র ২য় আকবরকে আশ্রয় দিলে আওরঙ্গজেব ১৬৮৯ খ্রি. শম্ভাজীকে বন্দি করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন।
রাজারাম (Rajaram: 1689-1700):
  • শিবাজী ও সয়রাবাইয়ের (২য় স্ত্রী) পুত্র। রায়গড়ের মন্ত্রীদের সহায়তায় সিংহাসনে বসেন। সাতারাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তিনি 'প্রতিনিধি' (Pratinidhi) নামক নতুন মন্ত্রীপদ তৈরি করেন, যার ফলে মন্ত্রীর সংখ্যা ৯-এ উন্নীত হয়।
তারাবাই (Tarabai: 1700-1707):
  • রাজারামের পত্নী। পুত্র ২য় শিবাজীর অভিভাবক হিসেবে মোঘল আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ছত্রপতি শাহুজী মহারাজ ও ক্ষমতার হস্তান্তর
Details - Shahuji Maharaj & Regency
শাহুজী মহারাজ (Shahuji: 1707-1749):
  • মোঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ ১ম কর্তৃক কারামুক্ত হয়ে সাতারায় আসেন।
  • ১৭০৭ খ্রি. খেদের যুদ্ধে (Battle of Khed) তারাবাইকে পরাজিত করে সিংহাসন অধিকার করেন।
  • তাঁর রাজত্বকালেই মারাঠা ছত্রপতির ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং পেশোয়ারা মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রকৃত চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।