গান্ধীজির উত্থান ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনসমূহ
প্রারম্ভিক ও আফ্রিকা
প্রত্যাবর্তন ও সত্যাগ্রহ
রাওলাট ও জালিয়ানওয়ালাবাগ
মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার
খিলাফত ও অসহযোগ
স্বরাজ্য দল ও বেলগাঁও
গান্ধীজি - প্রারম্ভিক জীবন ও আফ্রিকার কর্মযজ্ঞ
Details - Gandhiji in South Africa
  • ব্যক্তিগত জীবন: মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (Mohandas Karamchand Gandhi)। ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্ম। পিতা করমচাঁদ গান্ধী ও মাতা পুতলিবাঈ গান্ধী। রাজনৈতিক গুরু গোপালকৃষ্ণ গোখলে।
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মকাণ্ড:
    • ১৮৯৪ খ্রি. নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (Natal India Congress) প্রতিষ্ঠা।
    • ১৯০৩ খ্রি. ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন (Indian Opinion) নামক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ।
    • ১৯০৪ খ্রি. ফিনিক্স ফার্ম (Phoenix Farm) এবং ১৯১০ খ্রি. টলস্টয় ফার্ম (Tolstoy Farm) স্থাপন।
ভারতে প্রত্যাবর্তন ও প্রথম যুগের সত্যাগ্রহ
Details - Early Satyagrahas in India
  • ৯ই জানুয়ারি ১৯১৫ খ্রি.: গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাকাপাকিভাবে ভারতে ফিরে আসেন (এই স্মরণে ৯ই জানুয়ারি ভারতে 'প্রবাসী ভারতীয় দিবস' হিসেবে পালিত হয়)।
  • ১৯১৬ খ্রি.: বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (BHU) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবার জনসমক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দান।
  • চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭ খ্রি.): বিহারের চম্পারণে রাজকুমার শুক্লের আমন্ত্রণে নীলচাষীদের ওপর নীলকরদের অত্যাচার ও তিনকাঠিয়া (৩/২০ অংশ জমিতে নীল চাষের বাধ্যবাধকতা) ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন। এটি ছিল গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতে প্রথম সফল আইন অমান্য আন্দোলন (1st Civil Disobedience)।
  • আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (১৯১৮ খ্রি.): অনুসূয়া সারাভাইয়ের আমন্ত্রণে সুতি কল কারখানার প্লেগ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন। এটি ছিল গান্ধীজির প্রথম সফল অনশন ধর্মঘট (1st Hunger Strike)।
  • খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৮ খ্রি.): গুজরাটের খেদা জেলায় অতিবৃষ্টির ফলে ফসল নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কর মকুব না করার বিরুদ্ধে চাষীদের আন্দোলন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এখানে গান্ধীজির সহযোগী হন। এটি ছিল প্রথম অসহযোগ আন্দোলন (1st Non-cooperation)।
রাওলাট সত্যাগ্রহ ও জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
Details - Rowlatt Act & Jallianwalla Bagh
রাওলাট সত্যাগ্রহ (Rowlatt Satyagraha: 1919)
  • বিচারপতি স্যার সিডনি রাওলাটের নেতৃত্বে প্রণীত কালা কানুন বা ব্ল্যাক অ্যাক্ট (আইনগত নাম: Anarchical & Revolutionary Crimes Act)। কোনো প্রকার আপিল বা উকিল ছাড়াই সন্দেহভাজন বিপ্লবীদের সরাসরি জেলে বন্দি রাখার স্বৈরাচারী আইন।
  • ৬ই এপ্রিল ১৯১৯ দেশব্যাপী হরতাল ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু। ৯ই এপ্রিল পাঞ্জাবের দুই প্রখ্যাত নেতা ড. সাইফুদ্দিন কিচলু ও ড. সত্যপালকে ব্রিটিশ প্রশাসন গ্রেফতার করে।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (13 April 1919)
  • অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে বৈশাখী উৎসব ও দুই নেতার গ্রেফতারির প্রতিবাদ সভায় লর্ড চেমসফোর্ডের ভাইসরয় আমলে জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের আদেশে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালনা।
  • প্রতিক্রিয়া: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'নাইটহুড' (Knight) উপাধি এবং গান্ধীজি তাঁর 'কাইজার-ই-হিন্দ' (Kaiser-i-Hind) উপাধি বর্জন করেন। বিপ্লবী উধম সিং (Ram Mohammad Singh Azad) লন্ডনে গিয়ে তৎকালীন পাঞ্জাবের গভর্নর মাইকেল ও'ডায়ারকে (যিনি জেনারেল ডায়ারের দমন নীতিকে সমর্থন করেছিলেন) গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনার তদন্তে 'হান্টার কমিশন' গঠিত হয়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর নেতৃত্বে 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লিবারেশন ফেডারেশন' গঠিত হয়।
গান্ধীজি ও দক্ষিণ আফ্রিকা
Gandhiji & South Africa

পোরবন্দরে ১৮৬৯ খ্রি. জন্ম, আফ্রিকায় নাটাল কংগ্রেস (১৮৯৪), ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন পত্রিকা (১৯০৩) ও টলস্টয় ফার্ম (১৯১০) প্রতিষ্ঠা।

ভারতে আগমন ও আন্দোলন
Return & Early Satyagrahas

৯ই জানুয়ারি ১৯১৫ খ্রি. ভারতে আগমন। চম্পারণ (১৯১৭), আহমেদাবাদ মিল স্ট্রাইক ও খেদা সত্যাগ্রহ (১৯১৮)।

রাওলাট আইন ও হত্যাকাণ্ড
Rowlatt Act & Jallianwalla Bagh

১৯১৯ খ্রি. রাওলাট সত্যাগ্রহ ও ১৩ই এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। নাইটহুড ত্যাগ ও উধম সিং কর্তৃক ও'ডায়ার হত্যা।

গান্ধীজির উত্থান
ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনসমূহ
Emergence of Gandhi & Movements
sanvitools.in
১৮৯৪ খ্রি. - ১৯২৪ খ্রি.
মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইন
Gov of India Act 1919

মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার, সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের সম্প্রসারণ, প্রাদেশিক দ্বৈত শাসন ও কেন্দ্রীয় দ্বিকক্ষ আইনসভা।

খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন
Khilafat & Non-Cooperation

১৯১৯ খ্রি. আলী ভাইদের খিলাফত সম্মেলন, ১৯২০ সালের অসহযোগ আন্দোলন, তিলক স্বরাজ ফান্ড ও ১৯২১ খ্রি. মোপলা বিদ্রোহ।

চৌরিচৌরা ও স্বরাজ্য দল
Chauri Chaura & Swaraj Party

১৯২২ সালের চৌরিচৌরা সহিংসতা ও আন্দোলন প্রত্যাহার। ১৯২৩ খ্রি. সি.আর. দাস ও মোতিলাল নেহেরুর স্বরাজ্য দল ও ১৯২৪ বেলগাঁও কংগ্রেস।

মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন
Details - Gov of India Act 1919
মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার (Montagu-Chelmsford Reforms):
  • মন্টেগু ছিলেন তৎকালীন ভারত সচিব (Secretary of State) এবং লর্ড চেমসফোর্ড ছিলেন ভারতের ভাইসরয়।
মূল আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features):
  • পৃথক সাম্প্রদায়িক নির্বাচন ব্যবস্থাকে শিখ, ভারতীয় খ্রিস্টান ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করা হয়।
  • প্রাদেশিক স্তরে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বা ডায়ার্কি (Dyarchy at Provinces) চালু করা হয়, যেখানে বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) ও 'সংরক্ষিত' (Reserved) তালিকায় ভাগ করা হয়।
  • কেন্দ্রে প্রথমবার দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা (Bicameral Legislature) প্রবর্তন করা হয়: রাষ্ট্রীয় পরিষদ (Council of State) ও কেন্দ্রীয় বিধানসভা (Legislative Assembly)।
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন
Details - Khilafat & Non-Cooperation
খিলাফত আন্দোলন (Khilafat Andolan: 1919)
  • প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের হারের পর খলিফার ক্ষমতা হ্রাসের বিরুদ্ধে আলী ভ্রাতৃদ্বয় (শওকত আলী ও মোহাম্মদ আলী) দ্বারা খিলাফত কমিটি গঠন। ১৯১৯ সালের নভেম্বরে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত খিলাফত সম্মেলনে গান্ধীজি সভাপতি নির্বাচিত হন। কংগ্রেস ও তিলক প্রাথমিকভাবে এর বিরোধিতা করেছিলেন।
অসহযোগ আন্দোলন (Non-Cooperation Movement: 1920-1922)
  • জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে ১৯২০ খ্রি. আনুষ্ঠানিক সূচনা। এটি ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে গান্ধীজির নেতৃত্বে প্রথম দেশব্যাপী সর্বাত্মক গণ আন্দোলন।
  • আন্দোলনে অভূতপূর্ব হিন্দু-মুসলিম ঐক্য দেখা যায় এবং সরকারি স্কুল, কলেজ ও আদালত সম্পূর্ণ বর্জন করা হয়।
  • ১৯২১ খ্রি. বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মরণে 'তিলক স্বরাজ তহবিল' (Tilak Swaraj Fund) গঠিত হয়। এই সময়েই উত্তরপ্রদেশে 'একতা আন্দোলন' (Eka Movement) এবং মালাবারে উগ্র 'মোপলা বিদ্রোহ' (Mappila Revolt, 1921) দানা বাঁধে।
চৌরিচৌরা, স্বরাজ্য দল ও বেলগাঁও কংগ্রেস
Details - Chauri Chaura & Swarajists
চৌরিচৌরা ঘটনা ও প্রত্যাহার (Chauri Chaura: 1922)
  • ৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯২২ উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের চৌরিচৌরায় ক্রুদ্ধ জনতার হাতে ২২ জন পুলিশকর্মী জীবন্ত দগ্ধ হন। এই হিংসার পর ক্ষুব্ধ গান্ধীজি বার্দোলী অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।
কংগ্রেসের সুরাট ভাঙনের পর দ্বিতীয় বড় দ্বন্দ্ব ও দল গঠন
  • নো-চেঞ্জার (পরিবর্তনবিরোধী): রাজেন্দ্র প্রসাদ, সর্দার প্যাটেল ও এম. এ. আনসারী। গান্ধীজির গ্রামোন্নয়ন ও গঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন।
  • প্রো-চেঞ্জার (পরিবর্তনপন্থী): সি. আর. দাস, মোতিলাল নেহেরু ও হাকিম আজমল খাঁ। গান্ধীজির মতের বিরুদ্ধে আইনসভায় প্রবেশ করে ব্রিটিশ নীতির ভেতর থেকে বাধা সৃষ্টির পক্ষপাতী ছিলেন।
  • স্বরাজ্য দল: ১লা জানুয়ারি ১৯২৩ খ্রি. সি. আর. দাসের সভাপতিত্বে ও মোতিলাল নেহেরুর সম্পাদনায় 'অল ইন্ডিয়া খিলাফত স্বরাজ্য দল' গঠিত হয়। ১৯২৮ খ্রি. এরা কেন্দ্রীয় আইনসভায় স্বৈরাচারী 'পাবলিক সেফটি বিল' পরাস্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে দলটি 'রেসপনসিভিস্ট' (সহযোগিতাপন্থী) ও 'নন-রেসপনসিভিস্ট' ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।
বেলগাঁও কংগ্রেস অধিবেশন (Belgaum: 1924)
  • মহাত্মা গান্ধীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একমাত্র কংগ্রেস অধিবেশন। এই অধিবেশনে স্বরাজ্য দলকে কংগ্রেসের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ও আইনসভা শাখা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।