পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন ও পাত সংস্থান
স্তরসমূহ ও তথ্যসূত্র
বিযুক্তি ও শিলামণ্ডল
ভূমিকম্প তরঙ্গ
উপকেন্দ্র ও ছায়া বলয়
প্রধান পাতসমূহ
সীমানা ও ভৌগোলিক প্রভাব
তথ্যসূত্র ও পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরসমূহ
Details - Sources & Earth's Layers
তথ্যসূত্র (Sources of Info):
  • প্রত্যক্ষ উৎস: আগ্নেয়গিরির লাভা উদগিরণ ও খনিজ উত্তোলিত শিলা।
  • পরোক্ষ উৎস: তাপমাত্রা বৃদ্ধি, উল্কাপাত এবং ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ।
অভ্যন্তরীণ স্তরসমূহ (Layers of Earth):
  • ভূত্বক (Crust - SIAL): সবচেয়ে পাতলা সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ স্তর। সৌরজগতের আয়তনের মাত্র ১% এবং ভরের ১%।
    • মহাদেশীয় ভূত্বক: গ্র্যানাইট শিলা দ্বারা গঠিত, হালকা ও পুরু (গড় ৩০ কিমি)।
    • মহাসাগরীয় ভূত্বক: ব্যাসাল্ট শিলা দ্বারা গঠিত, ঘন ও পাতলা (গড় ৫ কিমি)।
  • গুরুমণ্ডল (Mantle - SIMA): সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ স্তর। গভীরতা ২৯০০ কিমি। সৌরজগতের আয়তনের ৮৪% এবং ভরের ৬৮%।
    • বিভাগ: ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (Upper Mantle) ও নিম্ন গুরুমণ্ডল (Lower Mantle)।
    • অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere): ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের সান্দ্র আংশিক গলিত রূপ, ম্যাগমার প্রধান উৎস।
  • কেন্দ্রমণ্ডল (Core - NIFE): নিকেল ও লোহা দ্বারা গঠিত। আয়তনের ১৫%, ভরের ৩১%।
    • বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল: তরল লোহা ও নিকেলের স্রোত (১৩০০ কিমি), যার ফলে পৃথিবীর চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয়।
    • অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল: অত্যন্ত চাপের ফলে কঠিন রূপ (২২০০ কিমি)।
বিযুক্তি রেখা ও শিলামণ্ডলের বিবরণ
Details - Discontinuities & Lithosphere
বিযুক্তি রেখাসমূহ (Discontinuities):
বিযুক্তি রেখা সীমানা গভীরতা
কনরাড (Conrad) বহিঃ ও অন্তঃ ভূত্বক ৪৫ কিমি
মোহো (Moho) ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল ১০০ কিমি
রেপিত্তি (Repitti) ঊর্ধ্ব ও নিম্ন গুরুমণ্ডল ৭০০ কিমি
গুটেনবার্গ (Gutenberg) গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল ২৯০০ কিমি
লেহম্যান (Lehmann) বহিঃ ও অন্তঃ কেন্দ্রমণ্ডল ৫২০০ কিমি
শিলামণ্ডল (Lithosphere):
  • ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের একেবারে ঊর্ধ্বভাগের কঠিন স্তর দিয়ে গঠিত। বেধ ১০-২০০ কিমি। (অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার শিলামণ্ডলের অংশ নয়)।
ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ ও পরিমাপক স্কেল
Details - Seismic Waves & Scales
ভূমিকম্পের তরঙ্গসমূহ (Seismic Waves):
  • দেহ তরঙ্গ (Body Waves):
    • P-তরঙ্গ (Primary): অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, সবচেয়ে দ্রুতগামী (৭-৮ কিমি/সে)। কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় সব মাধ্যমে চলাচল করতে পারে। শব্দ তরঙ্গের মতো।
    • S-তরঙ্গ (Secondary): অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (৪-৬ কিমি/সে)। কেবল কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, তরলে যেতে পারে না।
  • পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Waves): লাভ তরঙ্গ (L-waves) ও রেলি তরঙ্গ (Rayleigh waves)। সবচেয়ে ধীরগতির কিন্তু সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক।
পরিমাপক স্কেলসমূহ (Measurement Scales):
  • রিক্টার স্কেল (Richter Scale): ভূমিকম্পের মুক্ত শক্তি বা তীব্রতা (Magnitude: ০-১০) পরিমাপ করে। এটি একটি সীমাহীন স্কেল।
  • মার্সেলি স্কেল (Mercalli Scale): ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাতের তীব্রতা (Intensity: ১-১২) পরিমাপ করে।
  • সিসমোগ্রাফ (Seismograph): ভূমিকম্পের তরঙ্গ নথিভুক্ত করার যন্ত্র।
অভ্যন্তরীণ স্তরসমূহ
Sources & Earth's Layers

সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ভূত্বক (SIAL)। সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ গুরুমণ্ডল (SIMA)। নিকেল ও লোহা সমৃদ্ধ কেন্দ্রমণ্ডল (NIFE)।

বিযুক্তি রেখা ও শিলামণ্ডল
Discontinuities & Lithosphere

ভূত্বক থেকে কেন্দ্রমণ্ডল পর্যন্ত ৫টি প্রধান বিযুক্তি রেখা (মোহো, গুটেনবার্গ)। শিলামণ্ডল ও দুর্বল সান্দ্র অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার।

ভূমিকম্প তরঙ্গ ও পরিমাপক
Seismic Waves & Scales

ভূগর্ভের দেহ তরঙ্গ (পি ও এস) এবং ধ্বংসাত্মক পৃষ্ঠ তরঙ্গ (এল-তরঙ্গ)। তীব্রতার রিক্টার স্কেল ও ক্ষয়ক্ষতির মার্সেলি স্কেল।

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন
ও পাত সংস্থান তত্ত্ব
Earth's Interior & Plate Tectonics
sanvitools.in
ভূ-তাত্ত্বিক বিবরণ
উপকেন্দ্র ও তরঙ্গ ছায়া বলয়
Focus, Epicenter & Wave Shadow

ভূগর্ভের ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও ভূপৃষ্ঠের উপকেন্দ্র। তরঙ্গের প্রতিসরণ ও মাধ্যমের পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট পি ও এস ছায়া বলয়।

টেকটোনিক পাত ও তত্ত্ব
Tectonic Plates & Theory

অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান শিলামণ্ডলীয় পাতসমূহ। ৭টি প্রধান বৃহৎ পাত (প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ইউরেশিয়ান) ও ছোট পাতসমূহ।

সীমানা ও ভৌগোলিক প্রভাব
Plate Boundaries & Margins

নতুন ভূত্বক সৃষ্টিকারী প্রতিসারী সীমানা, ধ্বংসাত্মক অভিসারী সীমানা এবং সংরক্ষণশীল নিরপেক্ষ সীমানা।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও ছায়া বলয়
Details - Focus, Epicenter & Shadow Zones
  • কেন্দ্র (Focus/Hypocenter): ভূগর্ভের যে স্থান থেকে শক্তির প্রথম মুক্তি ঘটে এবং তরঙ্গের সূচনা হয়।
  • উপকেন্দ্র (Epicenter): ভূমিকম্প কেন্দ্রের ঠিক উল্লম্ব দিকে ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছের বিন্দু। উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
  • ভূমিকম্পীয় ছায়া বলয় (Seismic Shadow Zones):
    • P-তরঙ্গ ছায়া বলয়: উপকেন্দ্র থেকে ১০৩° থেকে ১৪০° কৌণিক দূরত্বের মধ্যবর্তী অঞ্চল, যেখানে কেন্দ্রমণ্ডলের ঘনত্বের পরিবর্তনের কারণে তরঙ্গের প্রতিসরণ ঘটে এবং তরঙ্গ পৌঁছাতে পারে না।
    • S-তরঙ্গ ছায়া বলয়: ১০৩° থেকে ১০৩° (১০৩° এর পর সম্পূর্ণ অংশ) গোলার্ধ জুড়ে বিস্তৃত অঞ্চল। কেন্দ্রমণ্ডলের তরল বহিঃস্তরের মধ্য দিয়ে S-তরঙ্গ যেতে না পারায় এই বিরাট ছায়া বলয় সৃষ্টি হয়।
টেকটোনিক পাত ও তত্ত্ব
Details - Tectonic Plates & Theory
  • তত্ত্ব (Plate Tectonics): পৃথিবীর কঠিন শিলামণ্ডল কতগুলি ছোট-বড় পাতলা খণ্ডে বিভক্ত, যা অপেক্ষাকৃত নমনীয় সান্দ্র অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান ও ভূগর্ভস্থ পরিচলন স্রোতের প্রভাবে গতিশীল।
  • ৭টি প্রধান বৃহৎ পাত (Major Plates):
    • ১. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত (Pacific Plate - বৃহত্তম)।
    • ২. উত্তর আমেরিকান পাত।
    • ৩. দক্ষিণ আমেরিকান পাত।
    • ৪. ইউরেশিয়ান পাত (Eurasian Plate)।
    • ৫. আফ্রিকান পাত।
    • ৬. ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান পাত (Indo-Australian Plate)।
    • ৭. অ্যান্টার্কটিকা পাত।
  • অপ্রধান ছোট পাতসমূহ (Minor Plates): নাজকা পাত (Nazca - প্রশান্ত মহাসাগর ও দ. আমেরিকার মাঝে), কোকোস পাত (Cocos), ক্যারিবিয়ান পাত, জুয়ান ডি ফুকা পাত, আরবীয় পাত এবং ফিলিপাইন পাত।
পাতের সীমানা ও ভৌগোলিক প্রভাব
Details - Plate Boundaries & Margins
সীমানার ধরন প্রতিসারী (Divergent) অভিসারী (Convergent) নিরপেক্ষ (Transform)
গতি পরস্পর থেকে দূরে (Spreading) পরস্পরের অভিমুখে (Subduction) পাশাপাশি ঘর্ষণ (Lateral sliding)
প্রভাব সৃজনশীল (নতুন ভূত্বক তৈরি) ধ্বংসাত্মক (ভূত্বকের বিনাশ) রক্ষণশীল (তৈরি বা ধ্বংস নয়)
ভূমিখণ্ড মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরা, গ্রস্ত উপত্যকা সামুদ্রিক খাত (Trench), ভঙ্গিল পর্বত চ্যুতি রেখা (Faults)
অগ্নুৎপাত হ্যাঁ (Volcanoes) হ্যাঁ না