আইন অমান্য আন্দোলন এবং সমাজতন্ত্র ও বিপ্লবীবাদের উত্থান
সাইমন কমিশন
লাহোর ও ডান্ডি
আঞ্চলিক নেতৃত্ব
চুক্তি ও গোলটেবিল
সমাজতন্ত্র ও দলিত
বিপ্লবী পর্যায় ২
সাইমন কমিশন ও জাতীয় প্রতিক্রিয়াসমূহ
Details - Simon Commission (1927-28)
  • ১৯২৭ খ্রি.: স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে সাইমন কমিশন গঠিত হয়।
  • ১৯২৮ খ্রি.: ৭ সদস্যের সর্ব-শ্বেতাঙ্গ কমিশন ভারতে প্রবেশ করে (কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়)।
  • জাতীয় প্রতিক্রিয়া:
    • "সাইমন গো ব্যাক" (Simon Go Back) স্লোগান রচনা করেন ইউসুফ মেহের আলী।
    • কংগ্রেসের মাদ্রাজ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে সাইমন কমিশন বয়কটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
  • বিকল্প প্রস্তাবনাসমূহ:
    • নেহেরু রিপোর্ট (১৯২৮ খ্রি.): মোতিলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কমিটি দ্বারা ভারতের প্রথম খসড়া সংবিধান বা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের দাবি পেশ।
    • মুসলিম লীগের 'দিল্লী প্রস্তাব' এবং জিন্নাহর বিখ্যাত '১৪ দফা' (14 Points of Jinnah) পেশ।
    • লর্ড আরউইনের ঘোষণার জবাবে কংগ্রেসের 'দিল্লী ইশতেহার' (Delhi Manifesto) পেশ।
লাহোর অধিবেশন ও ডান্ডি অভিযান
Details - Lahore Session & Dandi March
  • লাহোর অধিবেশন (১৯২৯ খ্রি.): জওহরলাল নেহেরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত। ১ম গোলটেবিল বৈঠক বয়কট এবং কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য হিসেবে 'পূর্ণ স্বরাজ' (Purna Swaraj) ঘোষণা। ২৬শে জানুয়ারি ১৯৩০ খ্রি. প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৩০ (১৯২৯) রবি নদীর তীরে প্রথমবার তিলক স্বরাজ পতাকোত্তোলন ও আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা।
  • ডান্ডি মার্চ (১৯৩০ খ্রি.): ১২ই মার্চ থেকে ৬ই এপ্রিল ১৯৩০ খ্রি.। সবরমতী আশ্রম থেকে গুজরাটের ডান্ডি সমুদ্র উপকূল (২৪০ মাইল) পর্যন্ত ৭৮ জন অনুগামী নিয়ে গান্ধীজির পদযাত্রা এবং লবণ আইন ভঙ্গ। ৪ঠা মে গান্ধীজি গ্রেফতার হন।
  • আন্দোলনের বিস্তার (Spread):
    • রায়তওয়ারী অঞ্চলে: খাজনা প্রদান বয়কট (No revenue payment)।
    • জমিদারী অঞ্চলে: চৌকিদারী ট্যাক্স না দেওয়া (No chowkidar tax)।
    • মধ্যপ্রদেশে: বন আইন অমান্য ও সরকারি জঙ্গল লুণ্ঠন (Defiance of forest laws)।
আইন অমান্য আন্দোলনের আঞ্চলিক নেতৃত্ব
Details - Regional Leaders of Satyagraha
  • তামিলনাড়ু: সি. রাজাগোপালাচারী (ত্রিশিনাপল্লী থেকে বেদারণ্যম পর্যন্ত লবণ সত্যাগ্রহ যাত্রা)।
  • কেরালা / মালাবার: কে. কেলপ্পান ( কালিকট থেকে পয়্যানুর পর্যন্ত লবণ পদযাত্রা)।
  • উড়িষ্যা: গোপবন্ধু চৌধুরী (ইনচুড়ি লবণ সত্যাগ্রহ)।
  • বিহার: অম্বিকা কান্ত সিনহা (নখাস পিণ্ড লবণ সত্যাগ্রহ)।
  • পেশোয়ার (উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত): খান আবদুল গফফর খান (সীমান্ত গান্ধী)। তাঁর বিপ্লবী দল 'খোদাই খিদমতগার' (Khudai Khidmatgar) বা 'লাল কুর্তা' (Red Shirts) নামে পরিচিত ছিল।
  • ধরাসনা (গুজরাট): সরোজিনী নাইডু, ইমাম সাহেব ও মণিলাল গান্ধী (ধরাসনা লবণ গুদাম আক্রমণ ও পুলিশের অমানুষিক অত্যাচার)।
  • মণিপুর ও নাগাল্যান্ড: নাগাল্যান্ডের কিংবদন্তি তরুণী নেত্রী রানী গাইডিনলিও (Rani Gaidinliu)।
সাইমন কমিশন ও প্রতিক্রিয়া
Simon Commission & Response

১৯২৭ খ্রি. কমিশন গঠন, ১৯২৮ খ্রি. আগমন ও সর্বাত্মক বয়কট। নেহেরু রিপোর্ট ও জিন্নাহর ১৪ দফা দাবি পেশ।

লাহোর অধিবেশন ও ডান্ডি মার্চ
Lahore & Dandi March

১৯২৯ খ্রি. পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা, ২৬শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস। ১৯৩০ খ্রি. ডান্ডি যাত্রা ও কর-বন্ধ আন্দোলন।

আইন অমান্যের আঞ্চলিক নেতা
Regional Leaders of CDM

রাজাগোপালাচারী (তামিলনাড়ু), কে. কেলপ্পান (মালাবার), সীমান্ত গান্ধী (পেশোয়ার) ও নাগাল্যান্ডের রানী গাইডিনলিও।

আইন অমান্য আন্দোলন
এবং সমাজতন্ত্র ও বিপ্লবী আন্দোলন
Civil Disobedience & Socialism
sanvitools.in
১৯২০ খ্রি. - ১৯৩২ খ্রি.
চুক্তি, করাচি ও গোলটেবিল
Karachi Session & RTC

১৯৩১ খ্রি. গান্ধী-আরউইন চুক্তি ও করাচি অধিবেশনে মৌলিক অধিকারের প্রস্তাব। গোলটেবিল বৈঠকসমূহ (১ম, ২য় ও ৩য়)।

সমাজতন্ত্র ও দলিত আন্দোলন
Socialism & Caste Movements

বলশেভিক প্রভাব, ১৯২০ খ্রি. কমিউনিস্ট পার্টি ও AITUC গঠন। আম্বেদকরের মহাদ সত্যাগ্রহ ও পেরিয়ারের আত্মমর্যাদা আন্দোলন।

সশস্ত্র বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়
Revolutionary Phase II

কানপুরে HRA (১৯২৪), ১৯২৫ এর কাকোরী ট্রেন ডাকাতি, ফিরোজশাহ কোটলায় HSRA (১৯২৮) ও সূর্য সেনের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন।

গান্ধী-আরউইন চুক্তি, করাচি ও গোলটেবিল
Details - Gandhi-Irwin Pact & RTC
গান্ধী-আরউইন চুক্তি (১৯৩১ খ্রি.)
  • আরউইনের শর্ত: আইন অমান্য স্থগিত ও ২য় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া।
  • গান্ধীর দাবি: অহিংস রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, বাজেয়াপ্ত জমি ফেরত ও লবণ তৈরির অধিকার।
করাচি অধিবেশন (১৯৩১ খ্রি.)
  • সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত। এখানে গান্ধী-আরউইন চুক্তি অনুমোদিত হয়।
  • ঐতিহাসিক দুটি প্রস্তাব: মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) ও জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি (National Economic Policy) সংক্রান্ত বিল পাস।
গোলটেবিল বৈঠকসমূহ (Round Table Conference)
  • ১ম বৈঠক (১৯৩০): কংগ্রেস যোগ দেয়নি।
  • ২য় বৈঠক (১৯client): মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
  • ৩য় বৈঠক (১৯৩২): কংগ্রেস বর্জন করে।
  • বিশেষ তথ্য: ড. বি. আর. আম্বেদকর তিনটি বৈঠকেই দলিতদের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।
সমাজতন্ত্রের বিকাশ ও জাতিভেদ বিরোধী আন্দোলন
Details - Socialism & Caste Movements
বলশেভিক প্রভাব ও কমিউনিস্ট আন্দোলন
  • ১৯১৭ খ্রি. রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব ভারতে সমাজতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
  • কমিউনিস্ট পার্টি (CPI): ১৯২০ খ্রি. তাসখন্দে এম. এন. রায় (M.N. Roy) কর্তৃক ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।
  • কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৪ খ্রি.): কমিউনিস্টদের দমনে ব্রিটিশ সরকারের মামলা। এস. এ. ডাঙ্গে, মুজফফর আহমেদ ও শওকত উসমানী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
  • ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC): ১৯২০ খ্রি. এন. এম. জোশীর উদ্যোগে গঠিত হয়। ১ম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়।
  • ট্রেড ইউনিয়নের জনক: এন. এম. লোখান্ডে (Bombay Mill Association এর প্রতিষ্ঠাতা)।
দলিত ও জাতিভেদ বিরোধী আন্দোলন (Caste Movements):
  • আত্মমর্যাদা আন্দোলন (১৯২৪ খ্রি.): তামিলনাড়ুতে ই. ভি. রামস্বামী নায়কার (পেরিয়ার) কর্তৃক শুরু।
  • মহাদ সত্যাগ্রহ (১৯২৭ খ্রি.): মহারাষ্ট্রে দলিতদের জলাশয় ব্যবহারের অধিকারের দাবিতে ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে পরিচালিত সত্যাগ্রহ।
  • বিপ্লবী সাহিত্য: বন্দী জীবন (শচীন সান্যাল), পথের দাবী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) এবং ফিলোসফি অব বোম্ব (ভগবতীচরণ বোহরা)।
সহস্র বিপ্লবী আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়
Details - Revolutionary Phase II
পাঞ্জাব-ইউপি-বিহার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড
  • HRA (১৯২৪ খ্রি.): রামপ্রসাদ বিসমিল, শচীন সান্যাল ও যোগেশ চ্যাটার্জী কর্তৃক কানপুরে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়।
  • কাকোরী ট্রেন ডাকাতি (১৯২৫ খ্রি.): লখনউয়ের কাছে সরকারি ট্রেন লুণ্ঠন। রামপ্রসাদ বিসমিল, আশফাকউল্লা, রোশন সিং ও রাজেন্দ্র লাহিড়ীর ফাঁসি হয়।
  • HSRA (১৯২৮ খ্রি.): দিল্লির ফিরোজশাহ কোটলায় চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগত সিং ও সুখদেব কর্তৃক সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়।
  • সন্ডার্স হত্যা ও আইনসভা বোমা (১৯২৯ খ্রি.): লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধে পুলিশ সুপার সন্ডার্সকে হত্যা করা হয়। আইনসভায় ট্রেড ডিসপিউট বিলের প্রতিবাদে ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত বোমা নিক্ষেপ করেন। ১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ ভগত সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসি হয়।
বাংলার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড (Bengal Phase)
  • চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (১৯৩০ খ্রি.): মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।