ইউরোপীয়দের আগমন ও ব্রিটিশ বিস্তার মাইন্ড ম্যাপ
বাংলায় বিস্তার
মহীশূর ও মারাঠা
পাঞ্জাব, সিন্ধু ও আফগান
পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ
ইংরেজ আগমন
কর্ণাটকের যুদ্ধ
বাংলায় ব্রিটিশ আধিপত্য, পলাশী ও বক্সার
Details - Bengal Conquest & Diwani
বাংলার নবাব ও গোল্ডেন ফরমান:
  • মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার ১ম স্বাধীন নবাব ছিলেন। ১৭১৭ খ্রি. মোঘল সম্রাট ফররুখ শিয়ার ইংরেজদের বাণিজ্য কর মওকুফের বিখ্যাত 'গোল্ডেন ফরমান' (Golden Farman) জারি করেন। সিরাজউদ্দৌলার শাসনকালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড (Black Hole Tragedy) ঘটে।
পলাশীর যুদ্ধ (Battle of Plassey: 1757):
  • ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বনাম ইংরেজদের যুদ্ধ হয়, যাতে সিরাজউদ্দৌলা নিহত হন এবং মোঘল ভারতের মূল চাবিকাঠি ইংরেজদের হাতে চলে যায়।
বক্সারের যুদ্ধ (Battle of Buxar: 1764):
  • ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মীর কাশিম, মোঘল সম্রাট ২য় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনী বনাম ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর যুদ্ধ হয় (ইংরেজরা জয়ী হয়)।
ইলাহাবাদ চুক্তি (Treaty of Allahabad: 1765):
  • ১৭৬৫ খ্রি. ২য় শাহ আলম ও সুজাউদ্দৌলা ক্লাইভের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে দেওয়ানি অধিকার (বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা) ইংরেজদের প্রদান করেন।
মহীশূর ও মারাঠা যুদ্ধ এবং অধীনতামূলক মিত্রতা
Details - Mysore & Marathas
ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধসমূহ (Mysore Wars):
  • ওয়াদিয়ার রাজবংশের পতনের পর মহীশূরের শাসনভার নেন হায়দার আলী (Hyder Ali)।
    • ১ম যুদ্ধ (1767-1769): মহীশূর জয়ী হয়; মাদ্রাজ চুক্তি (Treaty of Madras) দ্বারা সমাপ্ত।
    • ২য় যুদ্ধ (1780-1784): টিপু সুলতান রাজা হন; ম্যাঙ্গালোর চুক্তি (Treaty of Mangalore) দ্বারা সমাপ্ত।
    • ৩য় যুদ্ধ (1790-1792): টিপু পরাজিত হন; শ্রীরঙ্গপত্তনম চুক্তি (Treaty of Seringapatam - 1792) স্বাক্ষরিত হয়।
    • ৪র্থ যুদ্ধ (1798-1799): লর্ড ওয়েলেসলির বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিপু সুলতানের বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু ঘটে।
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance):
  • ১৭৯৮ খ্রি. লর্ড ওয়েলেসলি এই নীতি চালু করেন। স্বাক্ষরকারী প্রধান প্রধান দেশীয় রাজ্যসমূহ: হায়দ্রাবাদ (১৭৯৮), মহীশূর (১৭৯৯), তাঞ্জোর (১৭৯৯), অযোধ্যা (১৮০১), পেশোয়া (১৮০২)।
ইঙ্গ-مারাঠা যুদ্ধসমূহ (Maratha Wars):
  • ১ম যুদ্ধ (১৭৭৫-১৭৮২); ২য় যুদ্ধ (১৮০৩-১৮০৬); ৩য় যুদ্ধ (১৮১৭-১৮১৮)। এর ফলে মারাঠা শক্তির চূড়ান্ত বিলুপ্তি ঘটে এবং পেশোয়া পদ রদ করা হয়।
পাঞ্জাব গ্রাস, সিন্ধু বিজয় ও ব্রিটিশ আফগান নীতি
Details - Punjab, Sindh & Afghans
পাঞ্জাব রাজত্ব ও শিখ সংঘাত (Punjab & Sikhs):
  • ১৮০৯ খ্রি. মহারাজা রঞ্জিত সিংহ ও ব্রিটিশদের মধ্যে অমৃতসর চুক্তি (Treaty of Amritsar) স্বাক্ষরিত হয়।
  • ১ম শিখ যুদ্ধ (১৮৪৫): লাহোর চুক্তি ও ভৈরোয়াল চুক্তি দ্বারা সমাপ্ত। আলিয়ালের যুদ্ধ (Battle of Aliwal - 1846) এতেই সংঘটিত হয়।
  • ২য় শিখ যুদ্ধ (১৮ND - ১৮৪৮/৪৯): লর্ড ডালহৌসি শিখদের হারিয়ে পাঞ্জাব সাম্রাজ্য গ্রাস করেন।
সিন্ধু প্রদেশ গ্রাস (Sindh Acquisition):
  • ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মোঘল ও স্থানীয় আমিরদের দুর্বলতার সুযোগে লর্ড এলেনবরার আমলে সিন্ধু অধিকার করা হয়।
আফগান নীতি ও যুদ্ধসমূহ (Afghans):
  • ১ম আফগান যুদ্ধ (১৮৩-১৮৪২): গভর্নর জেনারেল জন লরেন্স ছিলেন (পরবর্তী নীতিতে যুক্ত)।
  • ২য় আফগান যুদ্ধ (১৮৭৯-১৮৮০): গণ্ডমার্কের চুক্তি (Treaty of Gandamak) স্বাক্ষরিত হয়।
  • ৩য় আফগান যুদ্ধ (১৯১৯ খ্রি.)।
বাংলায় ব্রিটিশ বিস্তার
Bengal, Plassey & Buxar

মুর্শিদকুলি খাঁর অধীনে স্বাধীন নবাবী আমল, ১৭১৭ খ্রি. ফররুখ শিয়ারের ফরমান, পলাশীর যুদ্ধ, বক্সারের যুদ্ধ এবং দেওয়ানি লাভ।

মহীশূর ও মারাঠা যুদ্ধ
Mysore & Marathas

হায়দার আলী ও টিপু সুলতানের ৪টি মহীশূর যুদ্ধ, অধীনতামূলক মিত্রতা এবং ৩টি মারাঠা যুদ্ধের মাধ্যমে পেশোয়া পদ বিলুপ্তি।

পাঞ্জাব, সিন্ধু ও আফগান
Punjab, Sindh & Afghans

মহারাজা রঞ্জিত সিংহের অমৃতসর চুক্তি, ১৮৪৫ ও ১৮৪৮ সালের শিখ যুদ্ধ, ১৮৪৩ খ্রি. সিন্ধু গ্রাস ও ইংরেজদের আফগান যুদ্ধসমূহ।

ইউরোপীয়দের আগমন
ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার
Advent of Europeans
sanvitools.in
১৪৯৮ খ্রি. - ১৯১৯ খ্রি.
পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ
Portuguese, Dutch & French

ভাস্কো দা গামার জলপথ আবিষ্কার, আলমেডার ব্লু ওয়াটার পলিসি, আলবুকার্কের গোয়া দখল ও ওলন্দাজ ও ফরাসিদের প্রথম কুঠি স্থাপন।

ইংরেজ আগমন ও যুদ্ধ
British Advent & Battles

রানী এলিজাবেথের চার্টার, হকিন্স ও রোর জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিতি, সুরাটের কুঠি, সোয়ালের যুদ্ধ ও ওলন্দাজ বিতাড়নে চিঁসুড়ার যুদ্ধ।

কর্ণাটকের যুদ্ধ ও দ্বৈরথ
Carnatic Wars & Rivalry

ইংরেজ ও ফরাসিদের ৩টি কর্ণাটকের যুদ্ধ, ১৭৬০ খ্রি. বন্দিবাসের যুদ্ধে আয়ার কুটের ফরাসি লিয়ঁকে হারানো ও পন্ডিচেরি দখল।

পর্তুগিজ, ওলন্দাজ ও ফরাসি কুঠি ও নীতি
Details - Portuguese, Dutch & French
পর্তুগিজদের প্রভাব (Portuguese):
  • ১৪৯৮ খ্রি.: ভাস্কো দা গামা কালিকট বন্দরে আসেন। কালিকটের রাজা জামোরিন (Zamorin) তাঁকে স্বাগত জানান। ভারতে আসার নতুন জলপথ আবিষ্কৃত হয়।
  • ১৫০৫ খ্রি.: ফ্রান্সিসকো দে আলমেইডা (১ম পর্তুগিজ ভাইসরয়) নীল জল নীতি বা 'ব্লু ওয়াটার পলিসি' (Blue Water Policy - কার্তাজ প্রথা) চালু করেন।
  • ১৫০৯ খ্রি.: আলফোনসো দে আলবুকার্ক ভাইসরয় হন। তিনি সতীদাহ প্রথা রদ করেন এবং ১৫১০ খ্রি. বিজাপুরের সুলতানের থেকে গোয়া (Goa) দখল করেন।
ওলন্দাজদের বাণিজ্য (Dutch):
  • নেদারল্যান্ডসের অধিবাসী। ১৬০৫ খ্রি. অন্ধ্রপ্রদেশের মসুলিপত্তনমে (Masulipatnam) প্রথম ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন।
ফরাসিদের আগমন (French):
  • ১৬৬৮ খ্রি. সুরাটে প্রথম ফরাসি কুঠি বা কারখানা স্থাপিত হয়।
ইংরেজদের আগমন ও প্রাথমিক নৌ-যুদ্ধসমূহ
Details - EIC Advent & Naval Battles
ইংরেজদের কুঠি ও দরবার (Britisher):
  • ১৫৯৯ খ্রি. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় এবং ১৬০০ খ্রি. রানী এলিজাবেথ ১ম-এর থেকে রাজকীয় সনদ লাভ করে।
  • ১৬০৮ খ্রি. ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হকিন্স জাহাঙ্গীরের দরবারে উপস্থিত হন। ১৬১১ খ্রি. মসুলিপত্তনমে প্রথম অস্থায়ী কুঠি স্থাপন।
  • ১৬১৩ খ্রি. সুরাটে প্রথম স্থায়ী কুঠি বা ফ্যাক্টরি স্থাপন। ১৬১৫ খ্রি. স্যার টমাস রো জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন।
সোয়ালের যুদ্ধ (Battle of Swalley: 1612):
  • সুরাটের কাছে সুভালি বা সোয়ালের নৌ-যুদ্ধে ইংরেজরা পর্তুগিজদের পরাজিত করে মোঘল দরবারে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করে।
চিঁসুড়ার যুদ্ধ (Battle of Chinsurah: 1759):
  • বিদরের যুদ্ধ বা হুগলীর যুদ্ধ নামেও পরিচিত। ১৭৫৯ খ্রি. রবার্ট ক্লাইভের নির্দেশে ইংরেজরা ওলন্দাজদের পরাজিত করে বাংলা থেকে তাদের পুরোপুরি বিতাড়িত করে।
কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহ ও ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব
Details - Carnatic Wars & Rivalry
কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহ (Carnatic Wars):
  • ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই:
    • ১ম যুদ্ধ (১৭৪৪-১৭৪৮): 'এক্স-লা-শ্যাপেল' (Aix-la-Chapelle) চুক্তি দ্বারা সমাপ্ত।
    • ২য় যুদ্ধ (১৭৪৯-১৭৫৪): পন্ডিচেরি চুক্তি (Treaty of Pondicherry) দ্বারা সমাপ্ত; এটি অম্বুরের যুদ্ধ (Battle of Ambur) নামে বিখ্যাত।
    • ৩য় যুদ্ধ (১৭৫৬-১৭Constants? No, ১৭৫৬-১৭৬৩): ১৭৬০ খ্রি. বন্দিবাসের যুদ্ধ (Battle of Wandiwash) ফরাসি সেনাপতি লিলি পরাজিত হন; পন্ডিচেরি ইংরেজদের হাতে চলে যায়। প্যারিসের চুক্তি (Treaty of Paris) দ্বারা সমাপ্ত হয়।
সেনাপতিবৃন্দ (Commanders):
  • ইংরেজ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন: স্যার আয়ার কুট (Eyre Coote)।
  • ফরাসি বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন: কাউন্ট ডি লালি (Comte de Lally)।